চাপাচাপি

গোবিন্দ ধর

 এত চাপা কথা তুমি চাপতে পারোনি। এত গোপন চাপা বেদনার কথা তুমি বের করে আনলে যেন জিব টেনে বের করে দিলে সত্যের। সত্য নাকি চাপা থাকে না। সত্য নাকি একদিন বেরিয়ে যায়। সত্য নাকি কখনও ছাই চাপা যায় না। আমরা চাপতে চাপতে দেওয়ালে ঠেকেছি। আমরা সেই গোপান চাপাচাপি বুকে লুঁকিয়ে দিব্যি বগাল বাজাই লাফাই ডলপিনের মতো। আমার শহরের রাস্তা গিলে খাওয়া ভদ্দরলোককে বলি না কিছুই চেপে যাই। ঘরের গোপন হাঁড়ির খবর গোপনে রাখি চেপে রাখি। ট্রামে বাসে সব জায়গায় শুধু চাপতে থাকি। চাপতে চাপতে নিজেকেই চেপ্টা করি। আমাদের পিঠ আর দেওয়াল একসাথে লেগে চেপ্টা হয়ে গেলো। লাল কেমন কমলাল সাদা কেমন কমসাদা গেরুয়া কেমন কম কম লাগে। আসলে সব রঙই একদিন ফিকে হয়ে যায় তমাল। সব রঙই একদিন বিবর্ণ হয় আমাদের গভীরে তার ছটা। চাপুম তো কতটুকু আর কতটুকু আর কত চাপলে আমাদের চাপাচাপি শেষ হয় কে জানে? কে জানবে? কি রকম চাপলে আমাদের সকলের জায়গা হয় পৃথিবীর শরীরে? সকলের স্কুল হয়? সকলের স্বাস্থ্যালয় হয়? স্বাস্থ্য সুরক্ষা হয়? সবার জন্য খাদ্য গিয়ে পৌঁছবে ঘরে ঘরে। আর কোন দিন কারো ঘর অরন্ধনে থাকবে না? চাপতে চাপতে নদীর উজানে এলাম। নদী পেরিয়ে এলাম। বর্ডার ক্রস করলাম। চাতলাপুর চা বাগান পেরিয়ে কৈলাসহর হয়ে জন্মের আগে থেকে চাপছি। আর কত? আর কত চাপবো? আর কত চাপা চাই? আর কত চাপা যায়? নিজের বাবার ডেটবডি পুরো না জ্বালিয়েই চেপে দিলেন যে শ্মশানবন্ধু গুম করে দিলো যে সাংবাদিকের শরীর! সব চেপে গেলেন আমাদের পূর্বজরা। আমরাও সব চেপে যাই। আমাদের স্বাধীনতায় যার কোন হাত ছিলো না যার কোন বন্ধুক ছিলো না যার কোন রক্তক্ষরণ নেই সেও আজ সংগ্রামী আমরা চাপি। চেপে রাখি। বলি না। এসব বললেই কেউ মুখ চেপে ধরেন। কেউ বলেন চুপ চেপে যান। নেতাজীর বউ ছিলো চাপুন নেহেরুর এডিনাদিল্লী চাপুন। আমার বন্ধুর পোশাকে যে কবি টিপ্পনি কাটে চেপে যান। আমার সকল বুকের ব্যাথা যার জন্য চুপ বলা নিষেধ। এই সব চেপে চেপে সব হারিয়ে আমরা শুধু চাপছি। চেপেই যাচ্ছি।

১৮:০৯:২০১৮
বেলা:১:১০মি
রাজেন্দ্রনগর