দেও :কবি পদ্মশ্রী মজুমদারের কাব্যগ্রন্থ।প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ ত্রিপুরার সন্তকবিমহারাজ মিলনকান্তি দত্ত ।
দেও
***
কবি পদ্মশ্রী মজুমদারের কাব্যগ্রন্থ।
প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ ত্রিপুরার সন্তকবিমহারাজ মিলনকান্তি দত্ত ।
স্রোত প্রকাশনা হালাইমুড়া কুমারঘাট ঊনকোটি ত্রিপুরা।পিন-799264 মোঃ9436167231
email:srot gobinda@rediffmail. com, baibari 15@gmail. com/Rs. 100.00
একটি জীবনমুখী কাব্যগ্রন্থ।
___________________________
আলোচনা:হারাধন বৈরাগী
কবি পদ্মশ্রী মজুমদার এই সময়ের ত্রিপুরার সাহিত্য আকাশের এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র।তিনি শুধু কবি নন।কবিতা ও গল্পে সমান পদচারণা ।ইংরেজী ও বাংলা উভয় ভাষায় সমান দক্ষ ।এই প্রতিস্রুতিবান কবি ত্রিকালদর্শী ত্রিপুরার পুন্যতোয়া দেওনদীর উপর আবাল্য আশৈশব আযৌবন সখ্যতার কিংবা সহবাসের সখ্যতা থেকে উঠে আসা ক্ষারপানিই যেন তাঁর এই কাব্যগ্রন্থের নিখাদ উচ্চার।কবি মিলন কান্তির কথায় '---নারী ও রমনী, জায়া ও জননী খণ্ড গৃহস্থালি ও কবিতার অখণ্ড চিরপদার্থ যেন আলাদা করা যায় না।পদ্মশ্রীর সত্যার্থী উচ্ছারণে,'তোমার বুকে এত জল! গহীন জলে নাওকে তবু ভাসতে দিলে কই? 'তবু'এই শব্দবেদ প্রস্থানের মহাপথে পাঠককে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চায়।'
-আমি এই কাব্যগ্রন্থে অনুভব করেছি নদীর সঙ্গে কবির অন্তরাত্মার অভেদ্য সহবাস।যা থেকে কবিকে আলাদা করা যায় না।আলাদা করা যায় না শ্রীহট্টীয় মানুষের জীবনবেদ থেকে নদীর কান্নার লবন অস্রুর।
দেওনদী /দেরগাঙ জম্পুই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে আনন্দবাজার দশদা কাঞ্চনপুর দুমুইখ্যাআদাম মাছমারা উকলছড়া পেঁচারতল হয়ে সিদংছড়ায় শাখান ভেদ করে কুমারঘাটের হালাইমুড়ায় গিয়ে মনুর সাথে সঙ্গম রচনা করেছে।এই নদীর সাথে জড়িয়ে আছে কত কথা। 1709-1715 খৃঃ উত্তর ত্রিপুরার লালজুরীর কোন এক স্হান থেকে এই নদীর নাব্যতা ধরেই তিনবার এসেছিলেন বাঁশের ভেলা করে আসামের মহারাজ রূদ্রসিংহের দুই রাজদূত রত্ন কদলী ও অর্জুন দাশ ত্রিপুরার উদয়পুরে।বর্তমান হালাইমুড়ায় কবি পদ্মশ্রীর কবিতাঘর বাসভবনের পাশ দিয়ে ।এমন নদী দেও কবির মগ্নচৈতন্যে ধরা পড়েছে ভিন্ন জীবন গাঁথামুখ নিয়ে পাঠকের কাছে।
আশৈশব আযৌবন দেওপাড়ে বেড়ে ওঠা কবি
পদ্মশ্রী তাই বলতে পারেন শুদ্ধ উচ্চারে-দেও আমাকে শিখিয়েছে শরীর জুড়ে বন্যা আসা/দেওনদী আমাকে দেয় সময়ের প্রথম পাঠ, জল/আমার এলোচুলে জল, বুকে জল, গর্ভে ক্রমাগত জলের ঢেউ নিয়ে এখন আমি বর্ষার ভরাল দেও/---তিনদিন ধরে জলের মেশিন খারাপ তৃষ্ণা নেই জীবনের কাছে/----জানতো সবচেয়ে ভালবাসি ঘুমোতে/দেও নদীকে বলি ঘুম পাড়িয়ে দাও /--------কোল ভরে দিয়েছে দেওনদী /তাই আছি পাশাপাশি সমান্তরাল /--যে মাছটি গিলে খেয়েছিল পরিচয়ের আঙটি/তার বুকে বারবার জল ফেলেও/ তাকে ধরা যায়নি/----বছর ঘুরতেই আবার গর্ভবতী মায়া/অনিলের স্ত্রী ছেলে কোলে লাকড়ি ধরে দেও নদীর বন্যায়/---আজ বারূনী/চাল খই কলা বাতাসা হাঁসের ডিম ধূপ আর উলুধ্বণিতে দেও আজ গঙ্গা/আজ দীপাবলি ----পথ দেখবেন চৌদ্দপুরূষ/---আজ আশ্বিনের সংক্রান্তি/শ্রীহট্টীয় ভাষায় আট আনাজের সংক্রান্তি----ধান আর সবজি ক্ষেতে ---বসুন্ধরা আজ গর্ভবতী/---দেও নদীর তীর ধরে হাঁটলে কাঞ্চনপুর নাকি যাওয়া যায--/যেখানে সুখ ও দুঃখ উৎসারিত হচ্ছে সমান দাড়ি পাল্লায় /--দেও নদী শুধু জানে কতটুকু অন্ধকারে জল কোনদিকে কতটুকু গড়ায়/দেও নদী জানে--কতটুকু অন্ধকারে জন্ম নেয় ডহর/--দেওনদী তিরতির মিশে যায় মনুতে আমরণ/--বড় সুখে আমার স্নায়ু বয়ে যাচ্ছে অবচেতনার দিকে /তুই দেওনদী আমার ইতিরেখা/
সত্যি পদ্মশ্রী ইতি চান একদিন দেওনদীর কোলে-----------।সুখপাঠ্য অসাধারণ এই কাব্যগ্রন্থ।আমার তাই মনে হয়েছে।পড়ুন ও পড়ান।শুভেচ্ছা কবিকে।

0 Comments