সুষমারাণী ধর স্মৃতি স্রোত সাহিত্য সম্মাননা পাচ্ছেন সাহিত্যিক নিয়তি রায়বর্মন


একঝাঁক সহযোগী শুভানুধ্যায়ী 
লেখক ও পাঠকের সমন্বয়ে
হাঁটি হাঁটি আটাশ বছর:১৯৯৫-২০২২

সুষমারণী ধর স্মৃতি স্রোত সাহিত্য সম্মাননা 
প্রবেশ:২১ জুলাই ১৯৪০ 
প্রস্থান:৪ মে ১৯৯৬

সুষমারাণী ধর ছিলেন বাঁধাই ও নাট্যশিল্পী দক্ষিণারঞ্জন ধরের সত্যিকারের সহধর্মিণী। সুনিপুণা, সুগৃহিনী এবং একজন মামবতাবাদী জননী।পাশাপাশি তিনি ছিলেন জ্ঞানপিপাসু।মাত্র নয় বছর বয়সে বিবাহের পিঁড়িতে বসতে হয়।তাই লেখাপড়ার ইচ্ছা থাকা সত্বেও সে সুযোগ হয়নি।জানার আগ্রহ তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল বহু উচ্চে।পিতা সতীশচন্দ্র সেন মাতা বর্তমান বাংলাদেশের ভানুগাছ নিবাসী সুশীলা সেন।বনেদি পরিবারের সাত বোন দুই ভাইয়ের একজন বড় ও অন্যজন ছোট আর বোনদের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন সুষমারাণী ধর। তাঁর বাবার লেখা গানের খাতা কবিতার খাতা অযত্নে অবহেলায় যদিও নিঃশেষ হতে হতেও অবশিষ্ট এখনো কিছু পাওয়া যায় ছোট ভাই সমরেন্দ্র সেনের নিকট।বর্তমানে সতীশচন্দ্র সেনের ছোট সন্তান তাঁর কুমারঘাট ভিটেতেই জীবিত আছেন।
সুষমারাণী ধরও এক সময় দু'একটি কবিতা লেখেন।সময়ের প্রবাহে সেগুলো আর নেই। 
তাঁর বই পাঠের তীব্র নেশা ছিলো।এক একদিনে এক একটি বই পাঠ শেষ করে দিতেন।এমনকি  মহাভারত,রামায়ণ তিনি একদিনে পাঠ করতে পারতেন।তাঁর পাঠের বিষয় প্রবন্ধ, নাটক কবিতাও।
দক্ষিণারঞ্জন ধর ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ধরের বড় সন্তান। চাকুরীসূত্রে ত্রিপুরার নানা স্থান পরিক্রমা করতে হয়েছে।সে সময় যৌথ পরিবারের একজন গৃহিণী হিসেবে সুষমারাণী ধর নিপুণ দক্ষতায় আগলে রাখতেন সংসার।স্বামীর চাওয়াকে গুরত্ব দিয়ে দেখতেন।যৌথ পরিবার বলে বাড়িতে আত্মীয় স্বজন লেগে থাকতো।সকলের মন জয় করে নেওয়ার দক্ষতা তাঁর একটি মহৎ গুণ। সকলকে খাওয়াতে পারলেই তাঁর আত্মা তৃপ্ত হতো।নারী দশরূপে দশভুজা মাতৃরূপে মা।সুষমারাণী ধর সেরকমই ছিলেন।তাঁর স্মৃতি স্বরূপ স্রোত সাহিত্য সম্মাননা প্রদান শুরু করা হয় ২০১২ সাল থেকে। প্রথম বছর পুরস্কার পান কথাসাহিত্যিক শঙ্খশুভ্র দেববর্মন মহোদয়।এবছর এই সম্মালনা প্রদান করা হবে সাহিত্যিক নিয়তি রায়বর্মন মহোদয়াকে।তাঁকে এই সম্মালনা প্রদান করতে পেরে আমরা নিজেরাই কৃতজ্ঞ থাকলাম।

সাহিত্যিক নিয়তি রায়বর্মন

ত্রিপুরা রাজ্যের সুপরিচিত ও যশস্বী লেখিকা নিয়তি রায়বর্মন কর্মজীবনে ছিলেন দায়িত্বশীল শিক্ষক। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঠিক দিশা দেখাতে সর্বদা ব্যস্ত থাকতেন।সমাজমনস্ক সাহিত্য-অনুরাগী নিয়তি রায়বর্মন দেওয়াল পত্রিকা প্রকাশসহ নানারকম সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। শিক্ষার্থীদেরকে সাহিত্যচর্চায়ও তিনি উৎসাহিত যোগাতেন।
সমাজের উশৃংখল বঞ্চিত লাঞ্ছিত মানুষের হয়ে কথা বলেন তিনি।অসাম্য আর অবহেলিত নারীদের পাশে থাকতে ভালোবাসেন।তাঁর সৃষ্টিলোকও এই সকল মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন নিয়ে। ত্রিপুরার প্রবন্ধসাহিত্যে তিনি অন্যতম।গল্প কবিতা ছড়া ভ্রমন জীবনীসহ শিশুদের উপযোগী লেখালেখিতে তাঁর অবদান পরিলক্ষিত। সপ্তপর্ণা প্রকাশনা ও সম্পাদনায়ও তাঁর দক্ষতা  বিদ্বৎসমাজে প্রশংসা পেয়েছে। অন্ধকার থেকে মুক্তিই তাঁর ব্রত।জীবনাভিজ্ঞতাই তাঁর সাহিত্যচর্চায় বাঙ্ময় হয়ে ধরে দিয়েছে।তাঁর অন্যতম গদ্যগ্রন্থ"নির্বাচিত গদ্য সাহিত্য-সংস্কৃতি নারী-ভাবনা ও বাংলাদেশ "।এবছর তাঁকে আমরা সুষমারাণী ধর স্মৃতি স্রোত সাহিত্য সম্মাননা প্রদান করতে পেরে গৌরবান্বিত।