হৃদি চংম্প্রেং

হারাধন বৈরাগী 
স্রোত প্রকাশনা
প্রকাশকাল:২০১৮

হারাধন বৈরাগীর বেড়ে ওঠা উত্তর জেলার কাঞ্চনপুরের যোগেন্দ্র কারবারীপাড়ায়।জন্ম ১১ অক্টোবর ১৯৬৪এ তৎকালিন পূর্বপাকিস্থানের সিলেটজেলার দিরাইথানার শাখাসুরমার পাড়ে- জটি গাঁয়ে।বর্তমানে তিনি ত্রিপুরাসরকারের শিক্ষাবিভাগে ইতিহাসের বিষয়শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।আশৈশব জঙ্গলের সাথে সখ্য।জঙ্গলের মায়া তাকে ভালবাসায় ঋদ্ধ করে।কবিতা গল্প ও গদ্যে সাবলীল।প্রথম কাব্যগ্রন্থ “হাসমতি ত্রিপুরা” প্রথম গদ্যগ্রন্থ”খুমপুই থেকে সিকামনুকতাই” স্রোত প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত ২০১৬এর বই মেলায়।”হৃদি কেবলই চংপ্রেঙ বাজায়”এটি তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।এর কবিতাগুলির রচনাকাল ২০১৬ এর সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৭ এর জুলাই পর্যন্ত।

মিলনকান্তি দত্ত হারাধন বৈরাগী'র কবিতা নিয়ে অসাধরণ কথা বললেন যা সকলের সাথে শেয়ার না করলে নিজেকে মুক্ত করতে পারছি না। সুতারং পড়ুন মিলনকান্তির অনুভব:

আমাদের আপলোড বলতে শুধুই ভণ্ডামো।আমাদের ডাউনলোড বলতে শুধুই পাপগত দিনক্ষয়,” আমাদের” বলতে সময় ।আমরা তো মূলত সময়ের নাগরিক ।খারাপ সময়ের মধ্যে ভাল থাকাটাও একটা প্রতিবাদ।হারাধন বৈরাগীর কবিতা এমনই এক প্রতিবাদ, যা প্রতিবোধেরই প্লুতস্বর।কবিতা বাস্তবের প্রতিবিম্ব নয়, বরং প্রতিবিম্বময় অন্যধরনের বাস্তব, যা অতিবাস্তবতার সন্ধান দেয়,,অন্তত চেতনার কাছে।’জঙ্গল আকাশ করেছি-আকাশ জঙ্গল’-জঙ্গলে তাঁর ভালবাসার শিকড়, শিখর তাঁর আকাশ সন্ধানী।কবিতার সমগ্র জুড়ে বনপারুকের ডাক, ধ্বনি থেকে ধ্বন্যান্তরে গমনাগমন, উল্টাছড়ার গীত, কোনো কোনো কবি এই তাললয়েই তিপরাইবাঁশি, অথচ এখানেই জালের চেয়ে বড়শি বেশী, বাবুদের ঘরপিছু একজন বড়শি।এমন আপদসঙ্কুলতার ভিতরও কবির আশ্চর্য চিত্রবুনোট, সর্বোপরি প্রাকৃত পারিপার্শ্বিকের জল-মৃৎ-সুবাতাসের ঘ্রাণগন্ধ কবিতা পাঠকের কাছে শুভঙ্কর বৈভব নিয়ে আসে।বৈরাগ্যের ভ্রান্তিবিলাস নয়, বরং কবি হারাধন বৈরাগী আমাদের প্রাপ্তি ঘটিয়ে দেন, এ রাজ্যের ছড়া-নদী-পাহাড় ও পাহাড়খণ্ডের মানুষ, তাদের লোকগল্পে কবিতায়িত কত-না চিরপদার্থের! 
                                -- মিলনকান্তি দত্ত