চুঁইয়ে পড়া শরীর গন্ধ || বিশ্বজিৎ নন্দী
প্রচ্ছদ :বিকাশ সরকার
স্রোত প্রকাশনা

কথাপৃষ্টা
গোবিন্দ ধর 

গারা ভাষায় গানের একটা কথা আছে সেটা হলো- নাঙ্গ রেরে গসেরঙ.... অর্থাৎ আহা কি সুন্দর কি ভালো..  কবি বিশ্বজিৎ নন্দীর কবিতা নিয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু বলার স্পর্ধা আদৌ আমার নেই। তবুও একটি কবিতা তুলে ধরলাম কবির:

অকারণে নিস্তব্ধতা ভাঙ্গো

ওই দেখ
শ্মশান আর কবরের স্থান
সব হয়েছে স্যানিটাইজ আজ
ওই দেখ
রাস্তার দুধারে খেজুরে গল্প
ওত পেতে আছে, 
আর আছে সত্যজিতের কবিতা
আমার বুকের মাঝে

ওই দেখ
গড 
আল্লাহ 
ভগবান আর
যিশুর দরবারে 
এখন দরবার করে না কেউ
তবু পাড়ার রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে 
তুমি অকারণে নিস্তব্ধতা ভাঙ্গো
হ্যাঁ
এটাই আজকের তাজা খবর
তাই শ্মশানে জায়গা হয়না
করোনায় মৃত্যু জনেদের  
তাই বুঝি
ফিরিয়ে দিল শ্মশান
বেথানীর ড:সাইলোর নশ্বর দেহ
এই নিয়ে কথকতা
কত কানাকানি
ধূপধূনো মোমবাতি

তবু ভাবনায় বাসা বাঁধি
বিষ মেশানো সময় 
সব যাবে ধুঁয়ে মুছে
পৃথিবীর উঠোনে আবার বসবে মজলিস।

মেঘালয়ের তুরায় কবির নিবাস।সে অঞ্চলের মানুষের ভাষা হিন্দি ইংরেজি বাংলা মিশেলে। সে এক অপূর্ব যাপন বলা যায় তুরাবাসী কবি বিশ্বজিৎ নন্দীর। 
তাঁর কবিতায় সে অঞ্চলের শব্দের বুননকৌশল তাঁকে বাংলাসাহিত্যে উত্তরপূর্বাঞ্চলে অন্যরকম ভাবে চিহ্নিত করে। 
তিনিই অকপটে তাই বলতে পারেন:"কিছু কিছু ব্যাথা বেদনা মনে জেগে থাকে কিন্তু ভুলে থাকতে হয় নইলে কষ্ট পেতে হয়। আর একটা কথা যারা ক্ষত দেয় তারাও জীবনেও কোন না কোন সময় ক্ষত হবেই হবে এটা আমি বিশ্বাস করি।"
আমার বিশ্বাস কবির কবিতার সাথে আমার নাড়ির যোগ আছে।সেজন্যে তাঁকে শুধু নয় তাঁর কবিতাকেও ভালোবেসে ফেলেছি।আমি আমার আত্মক্ষরণ যে ভাষায় লিখি বিশ্বজিৎ নন্দী হয়তো গারোমিশেলে আত্মার সেই ক্ষরণই লিখেন।তাই তাঁর কবিতা বহু বহু কবিতা পাঠকের নিকট হয়ে উঠবে আত্মক্ষরণের আরোগ্যনিকেতন।

শুভকামনা নিয়ত আমার।
গোবিন্দ ধর 
১ ফেব্রুয়ারি ২০২২