বৃষ্টিজল ও হিমাদ্রি দেব সংখ্যা স্রোত আলোচনা :সেলিম মুস্তফা 

০৮.০৭.২০১৮

হিমাদ্রি দেবের মাত্র একটিই কাব্যগ্রন্থ । “বৃষ্টিজল” । এটা  প্রকাশ করেছেন ‘স্রোত’ প্রকাশনা ।  এছাড়া তাঁকে নিয়ে ‘স্রোত’ সাহিত্যপত্রিকার একটি বিশেষ সংখ্যাও রয়েছে, যাতে কবির আরও কিছু লেখা এবং তাঁকে নিয়ে অন্যদের স্মৃতিচারণ রয়েছে । রয়েছে সাদাকালোয় কিছু পারিবারিক ছবি । কিন্তু এসব কিছুর পরেও মনে হচ্ছে কোথাও কিছু একটা অসম্পূর্ণতা রয়ে গেছে । তাঁর কিছু কবিতা হয়তো এখনো বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে আমাদের চোখের আড়ালে । কারণ আমাদের স্মৃতিতে কিছু কবিতার এক দুই পংক্তি এখনো হঠাৎ জেগে ওঠে যেগুলো এই দুটো বইয়ে নেই বলেই মনে হচ্ছে । ‘স্রোত’-এর কর্ণধার গোবিন্দ ধর জানালেন  হিমাদ্রি দেবের রচনা সমগ্র ইতিমধ্যে বেরিয়ে গেছে, যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়নি আগে । সুখবর, হয়তো সেটাতে আমরা তাঁর সমস্ত রচনা পেয়ে যাব । 

কিন্তু এসব কিছুই বিষয় নয়, বিষয় হিমাদ্রি দেব । কবি হিমাদ্রি দেব ।

কৈলাসহর থেকে তখন ধর্মনগরের টি.আর.টি.সি.-র লাল বাস ছাড়তো বিকেল ৫টায় । আমি তখন ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের টিলাবাজার শাখায় বদলি হয়ে গেছি । কৈলাসহর থেকে বিকেলের এই বাস ধর্মনগরের উদ্দেশ্যে একবার বেরিয়ে গেলে সেদিন ধর্মনগর আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যেত । আর গাড়ি পাওয়া দুষ্কর, যাত্রীও ফাঁকা । তাই দৌড়োতে দৌড়োতে যখন স্ট্যাণ্ডে পৌঁছলাম, ততক্ষণে সব টিকিট শেষ । সীট নেই । তখন বাড়তি যাত্রী নেয়া হতো না । ভেতরে ঢুকে টিকিট-কাউণ্টারে হিমাদ্রিদার কাছে গিয়ে বললাম, আমি বাড়ি (ধর্মনগর) যাব । সে পাত্তাই দিলো না, বলল বসো । লেখালেখি কেমন হচ্ছে ? ইত্যাদি ইত্যাদি নানান কথা । আমি টেনশন সহ্য করে করে হুঁ হাঁ করে যাচ্ছি । কবি বিশ্বজিৎ (দেব) -কে একটু গালাগাল দিল । কোন এক অধ্যাপককে একটু গালাগাল দিলো । তাঁর এইসব গালাগাল নিয়ে কেউ কিছু মনে করে না । এটা তাঁর নিত্যকাজ । তাদের প্রতি তাঁর ভালোবাসারই নিদর্শন মাত্র । আমি এটা জানি এবং সকলেই তা জানে । এমনকি  যাকে গালাগাল দিচ্ছে, সেই ব্যক্তি সামনে থাকলে সামনাসামনিই বকে দিতো, এতে কোন ভুল নেই । তারপর বলল, শোনো, একটা সম্পাদকীয় লিখেছি । এটাও তাঁর নিত্যকাজ, পত্রিকা নেই অথচ রোজই সম্পাদকীয় লেখে । পকেট থেকে একটা দুমড়ানো কাগজ বের করে পড়তে লাগলো । এতে সাহিত্যের লেশমাত্র নেই, হয়তো রাজনীতি আছে, হয়তো কোন ব্যক্তিবিশেষের প্রতি আছে তীক্ষ্ণ খোঁচা । মুখে পান, দু-কশ বেয়ে পানের লাল রস নামছে, কিছু ছিটকে আসছে আমার ওপর, কিন্তু তাঁর কোন ভ্রূক্ষেপ নেই, পড়েই যাচ্ছে । এবং আমার কানে কিছুই যাচ্ছে না । আমার তো ধর্মনগর যাবার টেনশন । গাড়িতে হর্ণ দিচ্ছে । হিমাদ্রিদা না-বললে ড্রাইভার গাড়ি ছাড়তে পারছে না । কিন্তু কে কার কথা শোনে ?

এমন অবস্থায় হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে সে বেরিয়ে গেল, আমি পিছে পিছে । গাড়িতে উঁকি দিয়ে দুটো তরুণকে হাতের ইশারায় ডেকে নামালো । দুই যাত্রী । তারা একসঙ্গে ধর্মনগর যাচ্ছে । হিমাদ্রিদা তাদের একজনের হাত থেকে একটা টিকিট প্রায় ছিনিয়ে নিয়ে আমাকে দিলো । আর তাকে বললো, তোমরা একজন আজকে যাও, আরেকজন কাইল যাইবা । ওরা বিন্দুমাত্র বিরক্ত না-হয়ে বিনা বাক্যব্যয়ে তার সিদ্ধান্ত মেনে নিলো । আমাকে বললো, যাও । তাঁর মুখে মুচকি হাসি । 
এটা আমার প্রতি তাঁর যতটুকু ভালোবাসা, তার চেয়ে বেশি তাঁর প্রতি ঐ তরুণদের ভালোবাসা বিশ্বাস আর অননুমেয় শ্রদ্ধা । এই হলো হিমাদ্রিদা, হিমাদ্রিনন্দন দেব, এক হিমাদ্রির ভেতরে আরেক হিমাদ্রি, এক দৈব পুরুষ যেন । এমন চরিত্র দেখাও ভাগ্যের কথা ।

২.

তবু তো জানি না
হিমাদ্রি দেব

পালাতে পালাতে আর যাই কোথা, আছি তো ভালোই
অনন্ত ভাসানে যায় কত প্রতিমার মুখ
নদীজল ফিরে আসে শুনি । আসে কি প্রতিমা ?
সময় বিদ্যুতটানে নিভে যায়, আকাশ দেখি না
তবু মনোময় সঙ্গোপনে বিশাল আকাশ !
এতোটা বিস্তৃত আছি, জাগরণে আছি এতোকাল
কাক-চিল স্বপ্নময় কতো পাখি উড়ে যায়
তবু তো জানি না, ভালোবাসার কোন্‌ মন্ত্রে
তাবৎ অসুখ সেরে যায় !


০৯.০৭.২০১৮

"ঈশ্বর মানি না আমি, তাকে এনে বিব্রত করো না..."

হিমাদ্রি দেবকে নিয়ে আরও ঘটনা আছে । বস্তুত, সে এমন একটি চরিত্র, যাকে নিয়ে পাঁচশ’ পৃষ্ঠার একটি উপন্যাস অনায়াসে হয়ে যাবে । তাঁর জীবনের প্রতিদিন সে একটির পর একটি ঘটনা রচনা করে গেছে । এবারের ঘটনাটিও টি.আর.টি.সি. বাস নিয়েই, যেখানে আমিও এক যাত্রী । সে ছিল সত্যিকারেরই এক ‘দাদা’ । কিন্তু সেই ‘দাদাগিরি’ অত্যন্ত নিভৃত । কবি সাহিত্যিকদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল একটু এক্সট্রা ধরণের । 
তখন অফিস ফেরত সব কর্মচারীরাই শনিবারের বিকেলের বাস ধরতেন ধর্মনগরের জন্যে । এমনি এক বিকেলে টিকিট কেটে বসে রয়েছি, বাসে নয়, হিমাদ্রিদার পাশের চেয়ারে । বাসে উঠতে দেয় না । বলে, আরে বও বও, দেরি আছে । ঘড়ি দেখলাম, পাঁচটা প্রায় বাজে বাজে । আমি উসখুস্‌ করি । সব যাত্রী যার যার সীটে বসে গল্পগুজব করছেন । গাড়ি ছাড়ার সময় পেরিয়ে গেল পাঁচ মিনিট । এমন হয় না । তখন টি.আর.টি.সি. বাস মানে খুব পাংচুয়াল একটা ব্যাপার । কত গল্প বাস নিয়েই । ঘণ্টায় ৮০ কি.মি.-র কম স্পীডে চলেনা, কোথাও দেরি করে না, ইত্যাদি ইত্যাদি । একটা মোটা দাগের লাল তির চিহ্নের মতো তার চরিত্র সকল যাত্রীদের মনে আঁকা । সকল মানুষের মনেই তখন । 

ড্রাইভার গলা বের করে চিৎকার করে বলে, কিতা অইলো, ছাড়তামনি ? 
দাঁড়াও, প্যাসেঞ্জার আছে একজন, হিমাদ্রিদা বলে । 
আমি তাঁর দিকে তাকাতেই ফিসফিস করে বলল, রঞ্জিত আইতাছে, ভাত খা-র । 
ঠিক তখনই রঞ্জিত রায় এলো । ইউ.বি.আই-এর কর্মচারী, যে ধর্মনগর থেকে কিছুদিন হলো বদলি হয়ে কৈলাসহর শাখায় এসেছে । আমাদের সঙ্গেরই এক গল্পকার । ঠিকানা রয়ে গেছে ধর্মনগর । কাজেই বিকেলের বাস ধরতে হয় । সেদিন তার অফিস থেকে ফিরে ঘরে গিয়ে ভাত খেয়ে আসতে দেরি হওয়াতে বিপত্তি । সময় পেরিয়ে গেলেও, তার জন্যই বাস আটকে রেখেছিলো কবি হিমাদ্রিনন্দন দেব । সাহিত্যিক বলে কথা, তাকে ফেলে বাস কী করে যাবে ?
আজ দুটো কবিতা পড়ছি হিমাদ্রিদার ।

৩.
বৃষ্টিজল
হিমাদ্রি দেব

আসলে নোতুন করে পড়তে হবে ধারাপাত
আলোক উজ্জ্বল বর্ণমালা
দৈবপাঠশালা থেকে মুক্ত করতে হবে ।
এইসব উৎসব নাটক থেকে
নিজেদেরে মুক্ত করা ছাড়া, আমাদের আর পথ নেই
ছেলেরা সকলই জানে । তাই তারা জন্ম থেকে বোবা
সব জানে বলে, হিরণ্ময় কলস ছাড়া
সব কলসের জল উচ্ছিষ্ট করেছে ।

***   ***   ***

৪.
লঘুস্বরে-এক
হিমাদ্রি দেব

ঈশ্বর মানি না আমি, তাকে এনে বিব্রত করো না
বরং তোমার সাথে
পদাবলী, প্রতিপদে গিরিশের পানপাত্রে আঁখি
বরং তোমাকে বলি আমার প্রশ্বাস হও, উঠতে দাও
মানুষের ভাষায় তুমি বলো, পাপ নেই, পুণ্য নেই
জগৎ সংসার, এই তোমার বোধের মত আলো ।


১২.০৭.২০১৮

আত্মমগ্নতা ছাড়া কেউ নিজেকে দেখতে কি পায় ? মনে হয় না । তবে অন্যের চোখেও নিজেকে দেখে কেউ কেউ । সে-দেখা কখনো অতি-প্রসারিত, কখনো অতি-সংকোচিত, স্বাভাবিক তো  কখনোই নয় ! তবু সে-আয়নাতেই বিভ্রান্ত হয়ে অনেকে আত্মচ্যুত, গর্বিত, অনেকেই অবসাদগ্রস্ত । তবে এই দেখাও জরুরী । সব মিলিয়েই নিজেকে খোঁজা ।
হিমাদ্রি দেব এমনই এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে খুঁজে নিয়েছেন আত্মমগ্নতার সঙ্গে বহির্জগতের সমালোচনা, তীব্র টিপ্পনীর মিশেল দিয়ে । নিজেকে বার বার উদ্ধার করেছেন অজস্র সম্পাদকীয় লিখে, যা আজ মনে হয়, কোনটা হয়তো তাঁর নিজেরই বিরুদ্ধে লেখা । হাজার কথা, হাজার কর্মতৎপরতার ফাঁকেও টের পাওয়া যেতো তাঁর সেই মগ্নতার উঁকি মারা, টের পাওয়া যেতো তাঁর যন্ত্রণাও । তাঁর ভাবনা তিনি ভেবে চলেছেন । তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতার ফাঁকে তিনি হয়তো এমনই এক কথা বলে বসলেন, যা আপনি কখনোই আশা করেননি, ভাবেননি । কেমন খাপছাড়া ! এটাই ছিল তাঁর ভেসে ওঠা । 

তাঁকে আমরা যত নমনীয় ভেবেছি, তিনি মোটেই তা ছিলেন না । নিজের পথ আর বিশ্বাসটুকু থেকে তিনি কখনোই টলে যাননি । অকুতোভয় এক আত্মা, যে তাঁর ঘুমঘুম অবয়বের অন্তরে সদাজাগ্রত । বাইরে যত অকাজ, না-কাজ, কথার ফুলঝুড়ি, হাসির যাদু সাজিয়ে রেখে নিজেকে ডুবিয়ে রাখতেন কবিতার ভুবনে । এই আড়ালপ্রিয়তা চট করে ধরা পড়তো না ।
তার কবিতায় কখনো কোন এলেবেলে কথা আমরা পাই না । নরম আস্তরণের তলে সব কথা তাঁর এক একটি শক্তিশেল যেন । 

“মাকে নিয়ে লিখতে পারি কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প ।
বিশেষ আপ্লুত হলে গান 
বলতে পারি মাতৃভূমি । কিন্তু জটিল গল্পের মতো
আমার পিতাকে নিয়ে কখনো কবিতা লিখিনি ...
...ভুলে যাওয়া ওই কৃষকের সাথে 
আজ আমার মায়ের মুখ মনে করি ।”  (তর্পণ)

 “আমার সরকার, কিছু না-দিলেও আমার সরকার...” (নেপথ্যে-২)

 “আমায় কেউ বাতিল করবে, এমন সাধ্যকার !
সুধাকান্ত, অমরত্ব, তোমার এবং আমার ।”...  (ভজনগীতি-দুই)

হিমাদ্রি দেবকে নিয়ে কারো কারো এমন কিছু বক্তব্য পড়লাম, যা শুধু বক্তার অহমিকাকেই জাহির করে । যারা সকলের সব কবিতাকেই নিজের মতন করে চান । কবিতা কি কেবলই পাঠকের ইচ্ছাপূরণ ? 
একজন কবির সব কবিতাই কি এমন হতে হবে, যাকে ‘সার্থক’ বলা যায় ? এরকম প্রশ্ন উঠলে আরও প্রশ্ন ওঠে । কবিতা  আর সার্থক, এই দুটি শব্দেরই-বা অর্থ কী ?  আমার তো মনে হয়, একেবারে নবীন যে কবিতা-লেখক, যার ভাষাই এখনো তেমনভাবে নিজস্বতা নিয়ে গড়ে ওঠেনি, তার কথা বাদ দিলে, উপরের কোন প্রশ্নই কোন ‘বোদ্ধা’র প্রশ্ন নয় । কারণ সৃজনশীল তথা মৌলিক কাজে “সার্থক” কথাটার কোন মাণদণ্ড নেই । থাকলে সেটা মৌলিক নয় । যারা সার্থকতার প্রশ্ন তোলেন, তারা পূর্বধারণায় বা পূর্বানুমানে আক্রান্ত । এরা স্থবির চেতনার শালগ্রাম শিলা ।
আর “কবিতা” শব্দটা সে-কথাতেই প্রযোজ্য, যে কথা একজন “কবি” বলবেন । বাকি সব কথা  তাদের বিষয়-আশয়, যারা কাব্য-সাহিত্যকে মূলধন করে অন্যকিছু করে থাকেন । 
শেষ পর্যন্ত ‘কবি’র কথাগুলোই থাকে, কী ‘রকম’ বললেন কোন পরিস্থিতিতে বললেন এগুলো পরে অর্থহীন হয়ে যায় । শুধু ‘রকম’-এ আবিষ্ট অনেক কবিকেই মাঝে মাঝে আমরা কবিতা ব্যতিরেক অনুঘটকরূপী অন্য-মাধ্যমেও ব্যস্ত হতে দেখি । কবিতাতে যেটুকু দিতে পারলেন না, সেটুকুর ঘোষণা দিতে চলে যান অন্য কিছুতে । আমার মতে কবিতার জন্য কবিদের এই প্রসঙ্গান্তর হওয়া, কবিতায় তার সঠিক উপস্থিতির অভাবকেই সূচিত করে । 

মুষ্টি-যুদ্ধের বিশ্বচ্যাম্পিয়ান ক্যাসিয়াস ক্লে যুদ্ধে যাননি, যদিও তা বাধ্যতামূলক ছিল তখন তার দেশে । এজন্য তার বিশ্ব-চ্যাম্পিয়ান খেতাবটি ফিরিয়ে নেয়া হয় । এমনকি, যুদ্ধে না-গেলে তাকে কামানের সামনে ফেলে দেয়া হবে বলা হয়েছিল, তাতেও দমেননি  তিনি  । হিমাদ্রি দেব সহস্র ‘ভিন্ন’ কাজে ব্যস্ত থাকলেও তার কবিতার তথাকথিত “সার্থকতার” জন্য অন্য কোন মাধ্যমের কাছে ধরা দেননি । তাঁর সব কবিতাতে তিনি শতাংশ উপস্থিত ছিলেন, রয়েছেন । 

যা বললাম সবই আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস । অন্য কারো অন্যরকম ধারণা বা বিশ্বাস থাকবে, তা অনুমেয় ।

আজ তাঁর আরও দুটি কবিতা পড়বো ।

৮.
নেপথ্যে-তিন
হিমাদ্রি দেব

অমরত্ব শব্দটি খুব প্রিয়তর বলে
অমৃতকুম্ভের জন্য, এত আয়োজন
এতো তুলকালাম কাণ্ড, পটে আঁকা লক্ষ্মীমুখ
প্রচ্ছন্ন মায়ায় পাখী ওড়ে ।
আকাশ পরিধি থেকে খড়কুটো নেয়, ধরে প্রত্যাশায়
শাখা, বুকভর্তি হাওয়া
শাখায় শাখায় প্রাণ পল্লবিত ।
সকল অমৃতলোভী দেবগণ, বঞ্চিত প্রত্যাশী দানবেরা
দৌড়-ঝাঁপ গুঁতোগুতি, আজীবন রক্তক্ষয়, সংঘর্ষের ইতিহাস রেখে
পরবর্তী প্রজন্মের কাছে কিছু বলে যায়, সংক্রমণ কালে
আক্রান্ত জীবন কাঁপে, প্রবঞ্চক দস্যু ও বিধাতা
প্রত্যাশিত নয়
তবুও বাপেরা মায়েরা ছেলেমেয়েদের জন্য চিন্তিত এখন
যেন এইসব পাপভার এদের কারোর নয় !
মাতৃহীন শৈশবের কাছে শব
পিতৃহীন শৈশবের কাছে শব
অন্ধ কালা বোবা প্রতিবন্ধীরা গড়াতে গড়াতে যায়
ভিক্ষা চায় ভিক্ষা দাও মহারাজা !

***   ***   ***

৯.
শিলালিপি
হিমাদ্রি দেব

আমাদের ভবিষ্যৎ কী ?
নষ্ট্রাদামুসের মুখে হাসি
পার্থিব পিতল থেকে ঠিকরে পড়ছে ভাবীকাল
বালিকার ম্লান মুখ অতিশয় বাসি ।

উদ্বেগে পিত্তল কাঁদে, দৈববাণী নাকি ?
গমগম শব্দে নামছে কথা
জ্বল জ্বল করে ভাসছে ছবি
সকল ছবির মধ্যে, স্পর্শ করা আছে নষ্ট মেয়ে
সমুন্নত ভাবাবেগ । মায়ানগরীর বুকে, সায়রের
শোক-পাখি ওড়ে, মোহময় ফাগুন পুড়ছে
সর্বনাশা জ্বরে ।

নিজেদের বৃত্তে বন্দী, সকলে এবার
দিগ-দিগন্ত কি তবে, শুধু স্তব্ধতার !