স্রোত আজ প্রকৃত যুবক ||অপাংশু দেবনাথ
স্রোত আজ প্রকৃত যুবক
অপাংশু দেবনাথ
সময়ের সকল দাবীকে আত্মস্থ করে স্রোত প্রকাশনা তার কাজ করে যাচ্ছে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে। দক্ষতার কারণে ত্রিপুরা , পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও বাংলাদেশের কবি সাহিত্যিকদের কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস , গল্প ও ছড়ার বই প্রকাশ করতে সমর্থ হয়েছে । এই সমর্থতা একদিনে আসেনি । সময়ের বহু ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করে পঁচিশটি বছর অতিক্রম করেছে স্রোত। আজ সে যুবক । তারুণ্যে উজ্জ্বল ।এই উজ্জ্বলতা ও তারুণ্যের সাক্ষী রয়েছেন অসংখ্য মানুষ ।
এই প্রকাশনা সংস্থাকে একটু একটু করে হৃদয়ের স্পর্শে ও ভালোবাসায় স্বপ্নের বাতিঘর রূপে সাজিয়ে তুলেছেন প্রকাশক গোবিন্দ ধর। স্রোত প্রকাশনার কথা বলতে গেলে গোবিন্দের কথাই তো বারবার ফিরে ফিরে আসে। স্রোত ও গোবিন্দ পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক।
কবে , কোথায় তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল আজ আর এসব মনে রাখার বিষয় নয়। বিষয় হলো কতটা সম্পর্ক সেটাই ভাবার। যাদের সঙ্গে সাহিত্যের জগতে প্রবেশ করেছিলাম তাদের অন্যতম হলো গোবিন্দ ধর। তখন ১৯৯১ সাল। দৈনিক সংবাদ, ত্রিপুরা দর্পণ, ভাবী ভারত , দৈনিক গণদূত পত্রিকার সাহিত্যের পাতাতেই লেখা থাকতো করবী গুপ্ত, নারায়ণ চন্দ্র আড্ড্য, শম্পা চৌধুরি , সুস্মিতা চৌধুরি, গোবিন্দ ধর ও আমার। তখনও স্রোত প্রকাশনার জন্ম হয়নি। "স্রোত" নামে লেটার প্রেসে ছাপা একটি লিটিল ম্যাগাজিন মাত্র ।
মনে পড়ে ডাকযোগে স্রোত সাহিত্য পত্রিকাটি গোবিন্দ ধর নিজের গাঁটের টাকা খরচ করে পাঠাতো। দৈনিক সংবাদ ছাড়া বাকী এ সব পত্রিকা সেসময় বাড়ি পাঠানো হতো। এখন সরকারী অনুষ্ঠানের চিঠিও বাড়ি আসেনা। বেসরকারী অনুষ্ঠানেরকর্তাগণ অনেকেই এ হোয়াটসঅ্যাপে অ্যাপএ একটি মেসেজ পাঠিয়ে খালাস।
যাক সেসব কথা।১৯৯১ সালের পয়লা এপ্রিল তরুণ কবি তপন দেবনাথ জিবি হাসপাতালে মারা যায়। আমার পকেটে তখনও ছিল স্রোত পত্রিকাটি । উদ্দেশ্য তপন সুস্থ হলে কবিতা পড়ে শোনাবো। সে সময় আর দেয়নি সে আমাদের।
লেখালেখির ১৪ বছর পর একদিন রাতে খেলাচ্ছলে গোবিন্দকে ফোন করে বলি," তুমি কি আমার কবিতার বই করবে?
আমার স্পষ্ট মনে আছে সে বলেছিল *ত্রিপুরার সমস্ত তরুণ কবিদের প্রথম কবিতার বই আমি চাই স্রোত প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হোক" ২০১২ সালে প্রকাশিত হলো "অপেক্ষার অম্লবালি"। কতটা বছর নিজেকে যাচাই করে নিতে চেয়েছি। তবু সাহস করে একটি কবিতার বই প্রকাশ করবার কথা ভাবতে পারিনি। তার পর২০১৫তে " মৃত্তিঋণ মেঘমিতাকে" প্রকাশিত হয়।কাজেই স্রোতের সঙ্গে আত্মীয়তা বহুদিনের । আত্মীয়তা কবি গোবিন্দ ধর ও গল্পকার পদ্মশ্রী মজুমদারের সঙ্গে। তাদের পরিবারের সঙ্গে। অসংখ্য সৃষ্টিশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের সুযোগে স্রোত আজ প্রকৃত যুবক। মেরুদন্ড সোজা করে নানা সফলতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া স্রোতের কোন অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকিনি । পৃথিবীতে নি:স্বার্থ কাজ করার মানুষের সংখ্যা কম । আমি বলি না গোবিন্দ নিঃস্বার্থভাবে বই প্রকাশ করছে। তবে সে প্রথমত একজন কবি। অন্য পরিচয় একজন প্রকাশক।
তার থেকে বহুবার দূরে গিয়েও তার এই ভেতরের কবি মনটির জন্যই পরস্পর নিকটেই থেকেছি আমরা।
স্রোত একদিন প্রকাশনা জগতে তার সর্বোৎকৃষ্ট বইটি প্রকাশ করবে ,এই প্রত্যাশা রাখি।
১৫:০৩:২০১৯
0 Comments