স্রোত’ কুমারঘাট উৎসব সংখ্যা ২০১৩ : একটি পর্যালোচনা

রাজীব চন্দ্র পাল 

সাহিত্য রচনা, প্রকাশ ও মূল্যায়নের নিরিখে সাময়িক পত্রিকার গুরুত্ব আমরা অবশ্যই স্বীকার করে নিই। উনিশ শতকের শুরুর দিকে ইংরেজের সাহচর্যে এদেশে প্রথম সাময়িক পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে । মার্শম্যানের ‘দিকদর্শন’ পত্রিকা থেকে শুরু করে বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা পর্যন্ত সাময়িক পত্রিকার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। যদিও তার আগে প্রাগাধুনিক বাংলা সাহিত্যে রাজ নির্দেশ নামায় চিঠিপত্রের ব্যবহার হয়েছিল, কিন্তু সাময়িক পত্রিকা সে সময় গড়ে ওঠে নি। সাময়িক পত্রিকা একেবারেই হাল আমলের উপকরণ তাও নয়। সাময়িক পত্রিকার ইতিহাস প্রায় দু'শো বছর অতিক্রান্ত করে চলেছে। ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট থেকে প্রকাশিত গোবিন্দ ধর সম্পাদিত ‘স্রোত’ সাময়িক পত্রিকাটির ক্ষেত্রেও আমরা এই মুখবন্ধ করতে পারি।

‘স্রোত’ ১৯৯৫ সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। ‘স্রোত’  ত্রৈমাসিক পত্রিকা । ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে একযোগে প্রকাশিত হচ্ছে।  বিশেষ সংখ্যা, কবিতা সংখ্যা, গল্পকার সংখ্যা, মণিপুরী সাহিত্যের অনুবাদ সংখ্যা, উপন্যাস সংখ্যা, মহিলা কবিদের কবিতা সংখ্যা, ককবরক গল্প সংখ্যা, মেমোরেবল স্পিচ সংখ্যা, আসামের দহন কালের কথকথা সংখ্যা, এভাবে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়ে চলেছে। শুধু ত্রিপুরা নয়, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বৃহত্তর বাংলা সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে পত্রিকাটি বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। 

‘স্রোত’ প্রকাশনা সংস্থা রয়েছে। এখান থেকেই নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে ‘স্রোত’ সাময়িক সাহিত্য পত্রিকা। গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, লোকসংস্কৃতি, প্রবন্ধ, শিশু সাহিত্য, এক কথায় বাংলা সাহিত্যের যাবতীয় উপাদান ও উপকরণে ‘স্রোত’ প্রতিটি সংখ্যায় সুসজ্জিত হয়ে পাঠকের দরবারে পৌঁছে যাচ্ছে। পাঠকের সাহিত্য রস মোক্ষণ ঘটাচ্ছে।

২০১৩ সালে ‘স্রোত’ প্রকাশ করেছে বিশেষ ‘কুমারঘাট উৎসব’ ও ‘সাক্ষাৎকার’ সংখ্যা। তারই একটি প্রতিক্রিয়া বর্তমান নিবন্ধে তুলে ধরার প্রয়াস করা হয়েছে। সংখ্যাটির সামগ্রিক পরিচিতি নীচে উপস্থাপন করা হল :

পত্রিকা: স্রোত’ কুমারঘাট উৎসব সংখ্যা ২০১৩।
বিশেষ বিষয় : সাক্ষাতকার সংখ্যা।
সম্পাদক : গোবিন্দ ধর ।
বর্ষ : ২০ বর্ষ।
সংখ্যা : সংখ্যা ৬৪-৬৫, সেপ্টেম্বর -ডিসেম্বর ২০১৩।
মুদ্রণ : গ্রাফি প্রিন্ট,  হালাইমুড়া, কুমারঘাট, ঊনকোটি ত্রিপুরা ৭৯৯২৬৪।
প্রচ্ছদ : মিলন কান্তি দত্ত।
বাঁধাই: পেপার ব্যাক।
মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২৫৭
সূচিপত্র : ২ পৃষ্ঠা।
ভূমিকা স্রোতকথা : ২ পৃষ্ঠা।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের শুভেচ্ছা : ১২ পৃষ্ঠা।
বিজ্ঞাপন : ৬৭ পৃষ্ঠা। 
মূল্য : ১০০ টাকা।

বর্তমান সংখ্যাটি নয়টি উপবিভাগে বিন্যস্ত হয়েছে :
 এক. স্রোত কথা
 দুই. সাক্ষাৎকার
 তিন. পুনর্মুদ্রণ সাক্ষাৎকার 
চার. প্রসঙ্গ কুমারঘাট উৎসব 
পাঁচ. মিডিয়ার চোখে
ছয়. সম্মান, পুরস্কার, সংবর্ধনা, প্রাপকদের পরিচিতি
সাত.  বিশেষ নিবন্ধ
আট. সমবেত কবিতা 
নয়. দ্বিতীয় কুমারঘাট উৎসবের অনুষ্ঠান সূচী।

 ‘স্রোত’ পত্রিকার এই সংখ্যাটিতে ত্রিপুরার ১৯ জন বিশিষ্ট কবি-সাহিতিকের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়েছে। সাক্ষাৎকার অংশে রয়েছেন নকুল রায়, অশোকানন্দ রায়বর্ধন, স্নেহময় রায়চৌধুরী, সত্যজিৎ দত্ত, রামেশ্বর ভট্টাচার্য, স্বপন নন্দী, সনজিৎ বণিক, ঋষিকেশ নাথ, অলক দাশগুপ্ত, মণিকা বড়ুয়া, মণিকা চক্রবর্তী, সন্ধ্যা দেবনাথ, হিমাদ্রি দেব, দেবব্রত দেব, দিলীপ দাস, বিজয়া রায়, বিধাত্রী ধাম, সুধন্য ত্রিপুরা, সুশীল শীল।
প্রত্যেকটি সাক্ষাৎকার অত্যন্ত তথ্যনিষ্ঠ এবং কবিদের জীবনপঞ্জি সহায়ক। এই সাক্ষাৎকারের অংশটুকু পরবর্তী কালের গবেষক ও ছাত্রদের কাছে বহু মূল্যবান সম্পদ। একজন কবি সাহিত্যিককে জানতে হলে তাঁর ব্যক্তিজীবনের অনুসঙ্গগুলোও জানতে হয়। সেই কাজটি এই পত্রিকা করে চলেছে। 

কুমারঘাট উৎসব নিয়ে নিবন্ধ লিখেছেন গোবিন্দ ধর, দেবব্রত দেবরায়,  বুদ্ধিরাম জমাতিয়া, অশোকানন্দ রায়বর্ধন, সজল দেব, পীযূষ দেব, শান্তনু চক্রবর্তী, টুনুবালা মালাকার, সমীরণ মালাকার, সম্পা বনিক। কুমারঘাট ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার বিশেষ বাণিজ্যিক নগর। তার নামকরণে রয়েছে আভিজাত্য। কুমারঘাট নামকরণ নিয়ে দুটো অভিমত রয়েছে। প্রথম পর্বের বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে কুমার সম্প্রদায়ের লোক মাটির তৈরি তৈজসপত্র নৌকায় করে বিক্রি করতে আসতেন। সেজন্য এই অঞ্চলের নাম হয়েছে কুমারঘাট। আরেক দল বিশেষজ্ঞের মতে, ত্রিপুরার রাজার কোন রাজপুত্র এইখানে তার নৌপরিবহন নোঙর করে বিশ্রাম করেছিলেন। সেই জন্য এই অঞ্চলের নাম কুমারঘাট। এ নিয়ে স্বতন্ত্র আলোচনার অবকাশ রয়েছে। এই সংখ্যাটিতেও এই দুটি আলোচনা প্রকাশিত হয়েছে। আগ্রহী পাঠক বর্তমান ‘স্রোত’ পত্রিকার সংখ্যাটি ক্রয় করে তা দেখে নিতে পারেন।

‘স্রোত’ সাময়িক পত্রিকার মূল্যায়ন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশংসা শংসাপত্র, কিছু আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে ‘মিডিয়ার চোখে’ অংশটিতে।   বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত অংশ মুদ্রিত হয়েছে। এই অংশটুকু পত্রিকাটির গুরুত্ব সর্বস্তরের পাঠকের কাছে আরো সহজভাবে পৌঁছে দিয়েছে। একটি সাহিত্য পত্রিকা কিভাবে পাঠকের কাছে সমাদৃত হয় এবং লেখকের কাছে সাহিত্য রচনা ও প্রকাশের আশ্রয় হয়ে ওঠে তা বিভিন্ন সংবাদপত্রে আলোড়ন সৃষ্টি করে,  তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে ‘স্রোত’ পত্রিকা। ত্রিপুরার দৈনিক সংবাদ, আজকের ফরিয়াদ, জনকন্ঠ প্রতিবেদন, দৈনিক সকালবেলা, আজকাল ত্রিপুরা, ডেইলি দেশের কথা, ত্রিপুরা দর্পণ, দৈনিক জনকণ্ঠ প্রভৃতি সংবাদপত্রে ‘স্রোত’ পত্রিকার ভূয়সী প্রশংসা প্রকাশিত হয়েছে। আমরা সহজেই  ‘স্রোত’ পত্রিকার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারছি। 

সম্মান পুরস্কার এবং সম্বর্ধনা প্রাপকদের ৩০ জনের একটি তালিকা এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।  ‘স্রোত’ পত্রিকা প্রতিবছর বিভিন্ন বিশিষ্টজনের নামাঙ্কিত পুরস্কার প্রদান করে থাকে। সেই তালিকা এখানে সংযোজিত হয়েছে। অর্থাৎ এটি উৎসাহ ব্যঞ্জন নথি হিসেবে আমরা গ্রহণ করতে পারি। লিটল ম্যাগাজিন হচ্ছে সাহিত্যের আঁতুর ঘর । একটি লিটল ম্যাগাজিন কি করে সাহিত্যিক গড়ে তোলে, লেখক সৃষ্টি করে তারই উৎসাহ মূলক দৃষ্টান্ত হচ্ছে  ‘স্রোত’ । পুরস্কার শুধু সম্মান জ্ঞাপন নয়, পুরস্কার প্রদানের মধ্য দিয়ে নতুন সৃষ্টির প্রেরণা সঞ্চারিত হয়। এই সামাজিক দায়বদ্ধতার কাজটুকুও  ‘স্রোত’  পত্রিকা করে চলেছে। তাই  ‘স্রোত’  পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে অভিবাদন জানাই।

 বিশেষ নিবন্ধ অংশে রয়েছে গোবিন্দ ধরের লেখা ‘এই শহর কুমারঘাট : সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত ও তথ্যপঞ্জি’ নিবন্ধ। এটিও এই সংখ্যার বিশেষ সংযোজন। এবং ‘বিশেষ নিবন্ধ’ নামেই তাকে সূচিপত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে। কুমারঘাট শহরের অনুপুঙ্খ যাবতীয় তথ্যপঞ্জি লেখক গোবিন্দ ধর এই অংশে তুলে ধরেছেন। কুমারঘাট অঞ্চলের ইতিহাস ও পৌরাণিক প্রেক্ষাপট, পর্যটন ক্ষেত্র, বিভিন্ন মন্দির, যেমন ভবতারিণী মন্দির, সায়দাবাড়ি কালী মন্দির, শিব মন্দির, কাছারি ছড়া, রাতা ছাড়া, প্রকাশনা সংস্থার কথা, কুমারঘাট থেকে প্রকাশিত পত্রপত্রিকার তালিকা, কুমারঘাটের উল্লেখযোগ্য কবি সাহিত্যিকদের পরিচয়, কুমারঘাটের সংবাদ প্রতিনিধি, খেলাধুলো, কুমারঘাট প্লে সেন্টার, কুমারঘাটের উল্লেখযোগ্য ক্লাব, সংস্থা ও সাংস্কৃতিক সংস্থা, আর্ট স্কুল, কুমারঘাটের বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী, যন্ত্র শিল্পী, কুমারঘাট অঞ্চলের থাকা খাওয়ার হোটেলের নাম, নাট্যশিল্পী, যাত্রাশিল্পী, মঞ্চ সঞ্চালক, আবৃত্তি শিল্পী প্রভৃতির বিস্তৃত পরিচয় প্রাবন্ধিক দিয়েছেন। এই নিয়েও একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থাময়ব নির্মিত হতে পারে। যা পরবর্তীকালে কুমারঘাট অঞ্চলের তথ্যপঞ্জি সংকলন হিসেবে গুরুত্ব পেতে পারে। গোবিন্দ ধর এই নিবন্ধটিকেই আরো বিস্তারিতভাবে গ্রন্থাকারে রূপ দিন। একটি লিটল ম্যাগাজিন অনেকগুলো গবেষণার উৎসমূল হতে পারে, তা এই সংখ্যাটি থেকে পাঠক সহজেই অনুধাবন করতে পারবেন।

সমবেত কবিতা অংশে ১৪ জন কবির কবিতা নিয়ে প্রকাশিত ‘সমবেত কবিতা’ সংকলনের তথ্য দেয়া হয়েছে। এ কবিতা সংকলনটির নাম করেছেন বিজয় রায়। সংকলনটিতে বিজয় রায়, ড. দেবব্রত দেবরায়, অপাংশু দেবনাথ, সুমিতা ধর বসু ঠাকুর, নির্মল দত্ত, নীলমণি দে, গোপেশ চক্রবর্তী, সুধন্য ত্রিপুরা, শুভ্রজ্যোতি মজুমদার, পদ্মশ্রী মজুমদার, বাপ্পা চক্রবর্তী, সন্ধ্যা দেবনাথ, গোবিন্দ ধর, সজল কান্তি দেব তাঁদের কবিতা রয়েছে। আগ্রহী পাঠক এই কবিতা সংকলনটি ও অবশ্যই পাঠ করতে পারেন। এবং এই কবিতা সংকলিটি নিয়েও একটি স্বতন্ত্র আলোচনামূলক গ্রন্থ রচিত হতে পারে। 

যেহেতু বর্তমান আলোচনাটি পাঠ প্রতিক্রিয়া, তাই এই সংখ্যাটির কিছু ত্রুটি বিচ্যুতিও নজরে পড়েছে। এবং সেগুলো না তুলে ধরলে এই আলোচনা অসম্পূর্ণ হবে বলে মনে হচ্ছে। তদুপরি কিছু ত্রুটি একেবারেই তথ্য বিকৃতি ঘটিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। যেমন, 

১. বারো পৃষ্ঠার বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃ বর্গের শুভেচ্ছা বাণীর জায়গায় আরো ভালো মানের সাহিত্য প্রকাশিত হতে পারত। যেহেতু এটি সাহিত্য পত্রিকা তথা লিটল ম্যাগাজিন। 

২. বিজ্ঞাপন অংশে রয়েছে ৬৭ পৃষ্ঠা। সেখানে বিজ্ঞাপনের প্রকাশ আরও সংক্ষিপ্ত করে বা কমিয়ে এনে আরো ভালো কবিতা, গল্প, উপন্যাস প্রকাশের সুযোগ ছিল। তবে এটা ঠিক যে ‘গোমতী’ পত্রিকা বাদে সরকারি সাহায্য ছাড়াই ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রিপুরায় সমস্ত লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশিত হচ্ছে। সেখানে বিজ্ঞাপন লিটল ম্যাগাজিন গুলোর মুদ্রণ ব্যয়ভারে খানিকটা আশাবাদ নিয়ে আসে। যদিও ত্রিপুরা সরকার ২০২৪ বইমেলা থেকে ‘শ্রেষ্ঠ লিটল ম্যাগাজিন পুরস্কার’ ঘোষণা করেছে এবং ‘পূর্বমেঘ’ পত্রিকাকে প্রথমবার এই  পুরস্কার প্রদান করেছে। কিন্তু আর্থিক সাহায্যের সুরাহা হয়নি। তবুও অত্যধিক বিজ্ঞাপন পত্রিকার ভাবমূর্তিকে খানিকটা হলেও বিনষ্ট করে বলে মনে হয়। 

৩. ‘স্রোত’ পত্রিকার বর্তমান সংখ্যার ৯৭ পৃষ্ঠায় সাক্ষাৎকার অংশে কবি সাহিত্যিক মণিকা বড়ুয়ার  জন্ম তারিখে ‘২৯৫৮ ইং’ লেখা হয়েছে। এটি সম্ভবত ‘১৯৫৮ ইং ’ হবে। আমরা বুঝতেই পারছি এটা মুদ্রণ প্রমাণজনিত ভুল। কিন্তু একজন লেখক এর জন্ম তারিখ এভাবে ১০০ বছরের ব্যবধানে প্রকাশ করা অমার্জনীয় ভুল নয় কি ! 

৪. অনুরূপ আরও একটি ত্রুটি নজরে পড়েছে বর্তমান সংখ্যার ৭৬ পৃষ্ঠায় অশোকানন্দ রায়বর্ধনের সাক্ষাৎকার অংশে । সেখানেও এই সাহিত্যিকের জন্ম সাল ‘২৯৫৬’ বলা হয়েছে সেটি সম্ভবত ‘১৯৫৬’  হবে । এটাও মুদ্রণ জনিত ত্রুটি বলে আমরা একেবারেই উড়িয়ে দিতে পারি না। বানান সংশোধন বা প্রমাণ সংশোধনের বিষয়টি তাহলে গুরুত্ব পায়নি ?

৫. বক্ষ্যমাণ সংখ্যাটির ১৪১ পৃষ্ঠায় পদ্মশ্রী মজুমদারের নেওয়া কবি বিধাত্রী দামের সাক্ষাৎকার অংশ রয়েছে । সেখানে কবি বিধাত্রী দামের ‘প্রিয়তম অনুভব’ এর ১৫ নং বিভাগে প্রিয় কবিতা ‘শেষের কবিতা’ বলা হয়েছে।  যদি এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ হয়ে থাকে তবে তা কোনোভাবেই কবিতা নয়, সেটি উপন্যাস।  তাহলে ‘প্রিয় কবিতা’ র জায়গায় হবে ‘প্রিয় উপন্যাস’। 

ভালো কাজের ত্রুটি বিচ্যুতি থাকবেই । সেটা তুলে ধরা মানেই অবমাননা নয়,  এইটুকু আমাদের বুঝে নিতে হবে। যেখানে ভালো কাজ হচ্ছে সেখানে একটু ভুল ভ্রান্তি থাকবেই। এখানেও তাই হয়েছে। মুদ্রণ প্রমাদ জনিত ভ্রান্তিগুলোতে আরো নজর দিতে হবে।  এমনিতেই তো আমরা বাংলা লেখার মুদ্রণ প্রমাদ নিয়ে হৈচৈ করে থাকি। তবে গঠনগত ভাবে পত্রিকাটি উৎকর্ষ ব্যঞ্জক। ত্রুটি বিচ্যুতির উর্ধ্বে ‘স্রোত’ পত্রিকার ২০১৩ সালের সংখ্যাটি যে বাংলা সাহিত্যের এক মাইল ফলক হয়ে আছে তা আমাদের স্বীকার করে নিতে হবে।

সহৃদয় হৃদয় সংবেদী পাঠক নিয়মিত ‘স্রোত’ পত্রিকা পড়ুন। পত্রিকায় প্রকাশিত সাহিত্যের রস আস্বাদন করুন। বিশেষত বক্ষ্যমাণ ‘উৎসব’ ও ‘সাক্ষাৎকার’ সংখ্যাটি পড়ুন। পত্রিকার নিয়মিত গ্রাহক হন। ‘স্রোত’ পত্রিকা সাহিত্যের স্রোত ও স্রোতস্বী ধারাকে আরো প্রবাহিত করুক, আরো মজবুত করুক। তদুপরি, ‘স্রোত’ পত্রিকার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও শ্রীবৃদ্ধি প্রত্যাশা করেই বর্তমান আলোচনার ইতি টানা গেল।