বাংলা ভাষাতত্ত্বের রূপরেখা 
প্রথম খণ্ড

ড.রবীন্দ্রকুমার দত্ত

স্রোত প্রকাশনার নতুন বই পরিচয়:২০২২

রবীন্দ্র পরিচিতি
জন্ম ১৯৫৬ সালে স্বাধীন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিলোনীয়া মহকুমার বর্তমান ঋষ্যমুখ  ব্লকের শ্রীপুর গ্রামে এক কৃষক পরিবারে। শ্রীপুর নিম্ন‌ বুনিয়াদি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ঋষ্যমুখ উচ্চতর মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি। সেখান থেকে হায়ার সেকেন্ডারী পরীক্ষায় ( ১৯৭৫ ) উত্তীর্ণ হয়ে ঐ বছরেই বাংলায় সাম্মানিক নিয়ে আগরতলা এম.বি.বি. কলেজে ভর্তি। তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকত্তোর কেন্দ্রে   (আগরতলা) বাংলা বিভাগে ভর্তি। ১৯৮০তে স্নাতকত্তোর ডিগ্রি লাভ ‌। ১৯৮২তে  কৈলাশহর রামকৃষ্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাঙলা শিক্ষক হিসেবে যোগদান। ১৯৮৬তে বিলোনীয়া কলেজের বাংলা বিভাগে এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে যোগদান ।  ১৯৯৮তে  ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাতত্ত্ব বিষয়ে পি.এইচ. ডি. ডিগ্রি লাভ ‌। ২০০০ সালে আগরতলা রামঠাকুর কলেজে যোগদান এবং ২০১৮তে অবসর গ্রহণ। ৭ম-৮ম শ্রেণি থেকেই ছন্দে কবিতা লেখার শুরু। কবিতা রচনা এবং ভাষাতত্ত্ব  ও লোকসংস্কৃতি নিয়ে লেখালেখিতেই অধিক আগ্রহ। লোকসংস্কৃতি বিষয়ক তথ্য সংগ্রহের জন্যে  এখনো হাটে মাঠে ঘাটে ঘুরে বেড়ানোর বিরাম নেই। এ পর্যন্ত ১৩টি গ্রন্থ এবং প্রায় দেড় শতাধিক  প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এ বছরের প্রথম দিকে পশ্চিমবঙ্গের যূথিকা সাহিত্য পত্রিকা কর্তৃক আয়োজিত আন্তর্জাতিক পরমাণু কবিসম্মেলনে " পরমাণু কাব্য সারথি " উপাধি  লাভ।ত্রিপুরা প্রকাশনা মঞ্চ থেকে পেয়েছেন দীনেন ভট্টাচার্য স্মৃতি সাহিত্য সম্মাননা :২০২১।এছাড়াও  তিনি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে পারিজাত সাহিত্য পত্রিকার অান্তর্জাতিক সাহিত্য  সম্মেলনেও (২০২১)
"পারিজাত সাহিত্য ভূষণ " ও  "পারিজাত  সাহিত্য গৌরব " উপাধিতে ভূষিত  হন।
তিনি 'নবাঙ্গন সংস্কৃতি পরিষদ' এবং 'পাথেয়' নামক  সাহিত্য পত্রিকারও সম্পাদক ‌।

বই বিষয়ককথা

অধ্যাপক,কবি ও লেখক ড.রবীন্দ্রকুমার দত্ত ত্রিপুরা, অাসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে বেশ সুপরিচিত । ভাষাতত্ত্ব,লোকসংস্কৃতি ও অাদিবাসী সংস্কৃতির প্রতিই তাঁর অধিক অাগ্রহ। বিভিন্ন  বিষয়ে এপর্যন্ত লিখেছেন ১৪টি গ্রন্থ এবং প্রায় দেড় শতাধিক প্রবন্ধ। ব্যাক্তিজীবনে তিনি যেমন সহজ সরল, লেখার বেলায়ও তেমনি। কারণ কোন বিষয়কে যতক্ষণ না সহজ করে পরিবেশন করতে পারছেন ততক্ষণ তাঁর স্বস্তি নেই।  তিনি বিষয়ের গভীরে গিয়ে সব দেখেন,ভাবেন এবং তারপরই তা  পরিবেশন করেন সহজভাবে সরল ভঙ্গিতে । এর প্রমাণ তাঁর বাংলা ছন্দ ও সারদামঙ্গল ( সম্পাদিত )। দুটি গ্রন্থই যে পাঠকমহলে  বিশেষভাবে সমাদৃত তা সকলেরই জানা। এবার তিনি লিখলেন অারো একটি কঠিন গ্রন্থ "বাংলা ভাষাতত্ত্বের রূপরেখা "। উল্লেখ্য,ভাষাতত্ত্ব বিষয়টা যেমনি জটিল, তেমনি রসতসহীন শুষ্ক।  তাই  ছাত্রদের কাছে এটি অত্যন্ত  ভীতিপ্রদ একটি বিষয় । কিন্তু অধ্যাপক শ্রী দত্ত এ বিষয়টাকে অত্যন্ত সহজ সরল ভাবে তুলে ধরে ছাত্রদের ভয় কাটিয়ে  দিতেনই শুধু নয়, তিনি বিষয়টার প্রতি ছাত্রদের অাগ্রহী করেও তুলতে  পারতেন।  তিনি শুধু কলেজেই নয়,  ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিস্টেন্স এডুকেশনের বাংলা এম.এ. ক্লাসেও ভাষাতত্ত্ব পড়াতেন অাপন দক্ষতায়। তিনি যে কলেজেই গেছেন সেখানে ভাষাতত্ত্ব বিষয়ক অধিকাংশ ক্লাসই তাঁর জন্যেই  বরাদ্ধ থাকত।  ছাত্রছাত্রীতো বটেই,তাঁর সহকর্মী অধ্যাপক-অধ্যাপিকাগণও তাঁকে ভাষাতত্ত্ব বিষয়ক একটি গ্রন্থ লিখতে  তাগাদা দিতেন।  বহু বছর পরে হলেও তিনি এবার তাদের  সেই  অাব্দার রক্ষার্থে এগিয়ে এলেন। 
লিখলেন - বাংলা ভাষাতত্ত্বের রূপরেখা গ্রন্থটি।  অাশারাখি এ গ্রন্থটিও অনার্স- এম.এ. পড়ুয়াদের  যেমনি উপকারে  অাসবে, তেমনি গবেষক-গবেষিকা,অধ্যাপক- অধ্যাপিকা সহ সর্বস্তরের ভাষানুরাগীদেরও বেশ  কাজে লাগবে।  এ গ্রন্থেও তিনি  ভাষাতত্ত্বের কঠিন জটিল বিষয়গুলিকে বেশ রসালো ভাষায়  
সহজ সরল ভঙ্গিতে পরিবেশন  করেছেন। বঙ্গ,বাঙালি ও  বাংলা ভাষার উদ্ভব কীভাবে হল এবং  সারা বিশ্বে বাংলা ভাষার  অবস্থান ও সমাদর কেমন তাও তিনি সুন্দরভাবে এতে তুলে ধরেছেন । তাই অাশারাখি গ্রন্থটি সকলের কাছেই  বিশেষভাবে সমাদৃত  হবে।