খুমপুই থেকে সিকামনুকতাই ’হারাধন বৈরাগী আলোচনা :অরিন্দম নাথ
‘খুমপুই থেকে সিকামনুকতাই’
হারাধন বৈরাগী
আলোচনা :অরিন্দম নাথ
স্রোত প্রকাশনা
আমার গল্পের বই পড়া শুরু বেশ একটু বয়সে ৷ সম্ভবত তখন ক্লাস সিক্স বা সেভেনে পড়ি ৷ প্রথম প্রথম বাসায় ‘শুকতারা’, ‘সন্দেশ’ এবং ‘কিশোর ভারতী’ পড়তাম ৷ পরের গন্তব্য বি বি আই-র লাইব্রেরি ৷ ক্রমে ধর্মনগর পাবলিক লাইব্রেরি ৷ যখন স্কুল শেষ করলাম, তখন দুটো পাঠাগারের প্রায় সব গল্পের বই পড়ে শেষ করে ফেলেছি ৷ আমার বয়সী ছেলেরা তখন স্বপন কুমার পড়তে ভালোবাসতো ৷ আর আমি ভালোবাসতাম অরণ্যদেব ৷ প্রতিষ্ঠিত লেখকদের মধ্যে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ সেই ভালোবাসা আজো অটুট ৷
‘স্রোত প্রকাশনা’ থেকে প্রকাশিত হারাধন বৈরাগীর লেখা ‘খুমপুই থেকে সিকামনুকতাই’ পড়তে গিয়ে বারবার স্কুলের দিনগুলির কথা মনে আসছিল ৷ বইটিতে মোট ১১০ পৃষ্ঠা এবং আটাশটি পরিচ্ছেদ রয়েছে ৷ লেখকের সাথে আমার পরিচয় বদন কিতাবের সুবাদে ৷ একদিন ফোনেও কথা হয়েছে ৷ কোনদিন সামানা-সামনি পরিচয় হয় নি ৷ আমাদের জন্ম অবিভক্ত ধর্মনগর মহকুমায় ৷ দু`জনেরই আলমাম্যাটার বি বি আই ৷ তিনি পেশায় শিক্ষক ৷ বর্তমান ডেরা গন্ডাছড়ার জগবন্ধুপাড়া, যেন বিভূতিভূষণের ঘাটশিলা ৷ তাঁর গল্পের পটভূমি গন্ডাছড়া মহকুমা এবং সেখানকার জনজাতি ৷ পুলিশের চাকুরীর সুবাদে আমিও এইসব এলাকায় প্রচুর ঘুরেছি ৷ কিন্তু তাঁর মত, জনজাতিদের সাথে মিশতে পারি নি ৷ তিনি বইতে গন্ডাছড়া এবং তৎসন্নিহিত এলাকার আরণ্যক সৌন্দর্যের মনোগ্রাহী বর্ণনা দিয়েছেন ৷ সাথে পরিবেশন করেছেন বরক জনজাতিদের অসংখ্য না-বলা রূপকথা, উপকথা, জনগাথা এবং বিশ্বাস ৷ লেখক তাঁর প্রয়াসে সর্বদা সৎ থাকার চেষ্টা করেছেন ৷ নিজস্ব মতবাদ কিংবা বিশ্বাস চাপানোর চেষ্টা করেন নি ৷ তাই এইগুলি পড়ে অরণ্যদেবের বই পড়ার আমেজ পাওয়া যায় ৷ বইটি উপন্যাস নয় ৷ লেখকের নিজস্ব অভিজ্ঞতালব্ধ জীবনরসে জারিত চিত্রকল্প ৷ তাঁর ভাষার সাথে বিভূতিভূষণের ভাষার তুলনা টানার ধৃষ্টতা আমি করি না ৷ লেখকের রচনাশৈলী একান্তই নিজস্ব ৷ মৌলিক ৷ যারা বন ভালোবাসেন, যারা ফুল ভালোবাসেন, যারা শিশুদের ভালোবাসেন, তাঁরা এই বইয়ের প্রেমে পড়তে বাধ্য ৷ আমি লেখকের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি ৷
0 Comments